প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গেছে। ঢাকের শব্দ থেমে গেছে। প্যান্ডেলের বাঁশ খুলে নিয়ে যাচ্ছে মিস্ত্রিরা।
কিন্তু একটা জিনিস বিসর্জন হয়নি।
এই কয়দিনে কত মুসলমান মণ্ডপে ঢুকলাম, হাতে প্রসাদ নিলাম, মুখে তুললাম, ছবি তুলে লিখলাম "সম্প্রীতি"। সেই মুখগুলো কি রাতে একবারও ভাবল, কী খেলাম, কার নামে খেলাম?
কেউ ভাবেনি। কারণ আমাদের শেখানো হয়েছে, এটাই সম্মান।
এবার আমি আপনাকে চৌদ্দশ বছর পেছনে নিয়ে যাব। শেষ লাইন পর্যন্ত আসুন। কারণ শেষে এসে আপনার মনে হবে, আমরা পুরো হিসাবটাই উল্টো করে শিখেছি।
মদিনার রাস্তা। একটা লাশ যাচ্ছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা ছিলেন, হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন। সাহাবিরা চমকে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, এ তো ইহুদির জানাজা! তিনি তাকালেন। বললেন, সে কি একটা প্রাণ নয়?
একটা ইহুদির লাশের জন্য আসমানের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা উঠে দাঁড়ালেন।
নাজরান থেকে খ্রিস্টানরা এলো। তিনি তাদের বসালেন মসজিদে নববীতে। প্রার্থনার সময় হলে বললেন, করো, এখানেই করো। ইহুদিদের সাথে সনদ লিখলেন: তোমাদের দ্বীন তোমাদের, তোমাদের জান মাল আমার জিম্মায়। আর একটা কথা রেখে গেলেন, যেটা শুনলে বুক কেঁপে ওঠে: যে কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের ওপর জুলুম করবে, কিয়ামতের দিন আমি নিজে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াব।
এটা সম্মান। যে সম্মানে জীবন বাঁচে, ইজ্জত বাঁচে, ইনসাফ বাঁচে।
এখন প্রশ্ন। এই মানুষটা, যিনি ইহুদির লাশের জন্য দাঁড়িয়ে যান, তিনি কি কখনো তাদের উপাসনায় গিয়ে দাঁড়িয়েছেন?
মক্কার কুরাইশরা একদিন ঠিক এই প্রস্তাবটাই নিয়ে এলো। খুব নরম সুরে। বলল, এত ঝগড়া কেন? এক বছর তুমি আমাদের দেবতার পূজা করো, এক বছর আমরা তোমার আল্লাহর ইবাদত করব। মিলেমিশে থাকি।
চিনতে পারছেন প্রস্তাবটা? এটাই আজকের "সম্প্রীতি"।
জবাব নবীজি দিলেন না। জবাব এলো আসমান থেকে। একটা পুরো সুরা নাজিল হলো, আর তার শেষ লাইন: লাকুম দীনুকুম ওয়া লিয়া দীন। তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আমার দ্বীন আমার।
একই মানুষ। প্রতিবেশীর জন্য জান দিয়ে দিতে রাজি। তার পূজায় এক পা ফেলতে রাজি নন।
তখনকার সম্মান মানে ছিল, তোমাকে রক্ষা করব। এখনকার সম্মান মানে হয়ে গেছে, তোমার প্রসাদ খাব। আমরা শুধু সম্মানের সংজ্ঞা বদলাইনি, আমরা ইমানের জায়গায় প্রসাদ বসিয়ে দিয়েছি।
আল্লাহ নিজে বলেছেন, যারা দ্বীন নিয়ে তোমাদের সাথে লড়েনি, তাদের সাথে সদাচরণ আর ইনসাফ করতে তিনি নিষেধ করেন না। এক আয়াত। আর সেই একই আল্লাহ বলেছেন, যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, তা তোমাদের জন্য হারাম। আরেক আয়াত। একই কিতাব। আমরা প্রথমটা দিয়ে দ্বিতীয়টা মুছে দিয়েছি, আর নাম দিয়েছি উদারতা।
এবার আমার কথা।
আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। যে পথ ছেড়ে এসেছি, সেটা আমি চিনি। সেই পথ ছাড়তে কী কী হারাতে হয়, সেটাও জানি। তাই যখন দেখি জন্মসূত্রে পাওয়া ইমানটাকে কেউ মণ্ডপের গেটে জুতার মতো খুলে রেখে ঢুকে যাচ্ছে, আমার কলিজা ছিঁড়ে যায়। আমি যেটার জন্য সব ছেড়েছি, সেটা কারও কাছে এক থালা প্রসাদের দাম।
স্পষ্ট করে বলছি, কেউ ভুল বুঝবেন না।
আমার হিন্দু ভাই আমার দেশের মানুষ। একই মাটি, একই ছাদ, একই আকাশ। তাঁর নিরাপত্তা আমার দায়িত্ব। তাঁর বিপদে আমি সবার আগে দৌড়াব। তাঁর ইজ্জতে কেউ হাত দিলে আমি রুখে দাঁড়াব। নবীজি আমাকে তাই শিখিয়েছেন।
কিন্তু আমি মুসলমান। আমি আমার পবিত্র কোরআন মানব। আমার আল্লাহর কথা মানব। তাঁকে সম্মান দিতে তাঁর মণ্ডপে ঢুকতে হয় না। তাঁর প্রসাদ খেতে হয় না। সম্মান দিতে ইমান বন্ধক রাখতে হয় না।
ভালোবাসা দেব। ইনসাফ দেব। জীবন দিয়ে হলেও নিরাপত্তা দেব। ইমান দেব না।
মুহাম্মদ রাজ (নওমুসলিম)
Disclaimer: This post is not against any religion, community or individual. It is a Muslim's reflection on his own faith, and it clearly affirms respect, safety and good conduct toward people of other religions. There is no intent to spread hatred, incite anyone or belittle anyone. If you disagree, please say so politely. Hateful or abusive comments will be removed.